ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিমাগো র‍্যাঙ্কিংয়ে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের সেরা বাকৃবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০৮ ১১:০৫:০৭
সিমাগো র‍্যাঙ্কিংয়ে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের সেরা বাকৃবি সিমাগো র‍্যাঙ্কিংয়ে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের সেরা বাকৃবি

বাকৃবি প্রতিনিধি

স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা মূল্যায়ন সংস্থা সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিংস ২০২৬-এ ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে দেশের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। একই সঙ্গে এশিয়ার ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৯২তম এবং বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৩২তম।

রোববার (৭ জুন) বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। এ সময় ভেটেরিনারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে বৈশ্বিক মূল্যায়ন করে থাকে। ২০২৬ সালের তালিকায় বিশ্বের ১০ হাজার ৮২৭টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯১টি।

তিনি জানান, ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরির ১ হাজার ৩০৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ। এশিয়ার ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকৃবির অবস্থান ৯২তম এবং বৈশ্বিকভাবে ৯৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩২তম।

তিনি আরও জানান, ভেটেরিনারি সায়েন্সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যার বৈশ্বিক অবস্থান ৫৯৩তম। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১০৪তম), চতুর্থ স্থানে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১১৬২তম) এবং পঞ্চম স্থানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১২৮৫তম)।

এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আরও উন্নতির লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যাপক বাহানুর রহমান বলেন, এ অর্জন পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য গর্বের। শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি জানান, র‍্যাঙ্কিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে ১৫ সদস্যের একটি ‘র‍্যাঙ্কিং সেল’ গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির বলেন, ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাব—এই তিনটি সূচককে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে কেবল স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গবেষণা প্রকাশনার ব্যয় বহন করা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিল থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গবেষণায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণায় আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ